গাইবান্ধায় চাচার ধর্ষণের শিকার ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রী!

Tista Tista

Express

প্রকাশিত: ২:০৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২১, ২০২০

মাসুম লুমেনঃ

গাইবান্ধায় ষষ্ঠ শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী ধষণের শিকার হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার খামার টেংগরজানী গ্রামে। অভিযুক্ত ধর্ষক লিয়ন মিয়া (২০) নির্যাতিতা ছাত্রীটির সম্পর্কে চাচা।

নির্যাতিত ছাত্রীটির স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী সাহেব মিয়ার ছেলে বখাটে লিয়ন মিয়া সম্পর্কে চাচা হলেও দীর্ঘদিন থেকে মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্ন সময় অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। লম্পট লিয়নের পরিবারকে একাধিকবার এ বিষয়টি জানালেও তারা কোন ব্যবস্থা নেননি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় মেয়েটি পাশের বাড়ীতে টেলিভিশন দেখতে যায়। রাত ৮ টার দিকে মেয়েটি প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে ঘরের বাহিরে বের হলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা লম্পট লিয়ন মেয়েটির মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী মামুন মিয়ার একটি নির্মাণাধীন ঘরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় মেয়েটি চিৎকার-চেচামেচি করতে চাইলে গামছা দিয়ে তার মুখ বেঁধে ফেলে। ধর্ষণ করার পর এ ঘটনা কাউকে না জানাতে মেয়েটিকে ভয়ভীতি ও জীবন নাশের হুমকী দিয়ে লম্পট লিয়ন পালিয়ে যায়। এরপর মেয়েটি রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ী ফিরে কান্নাকাটি করলে ঘটনাটি জানতে পারে তার পরিবার। এসময় মারাত্বক আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় মেয়েটিকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে তার পরিবার।

এ ঘটনায় নির্যাতিতা মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এদিকে অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেফতার না হওয়ায় নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মেয়ের পরিবার।

মেয়ের বাবা জানান, “ওই লম্পট লিয়ন গ্রাম সম্পর্কে আমার চাচাতো ভাই। আমি সামান্য দর্জির কাজ করে দিন আনি দিন খাই। বাড়ির বেড়া পর্যন্ত ভালো নেই। তারা প্রভাবশালী হওয়ায় কিছু বলতে গেলেই উল্টো হয়রানি হতে হয়। এর আগেও আমারই এক ভাতিজীর সাথে এই নিকৃষ্ট কাজ করেছিল। মেয়েটি এখন দশম শ্রেণির ছাত্রী। সেই ঘটনার বিচার আজও হয়নি। আমি এ ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।

অভিযুক্ত লিয়নকে ধরতে পুলিশী অভিযান চলছে বলে জানান সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার। তিনি বলেন, বর্তমানে ধর্ষণের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এটি এখন একটি চ্যালেঞ্জ। আমরা এই চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করছি। আশা করছি অপরাধীকে দ্রুতই গ্রেফতার করা যাবে। তাছাড়া ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীকে নিরাপত্তা দিতে মহিলা পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।