গাইবান্ধার নলডাঙ্গায় চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্দ্ব, ভোগান্তিতে ৩৬১ জন হত-দরিদ্র  নারীপুরুষ

Tista Tista

Express

প্রকাশিত: ৬:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২০

মাসুম লুমেনঃ

গাইবান্ধায় চেয়ারম্যান-মেম্বার দ্বন্দ্বে থমকে গেছে ৩৬১ জন শ্রমিকের জীবন চাকা। অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছে এই বিপুল পরিমাণ নারীপুরুষ শ্রমিক ও তাদের পরিবার।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সরকারি কর্মসূচির কাজ বন্ধ রয়েছে প্রায় তিন সপ্তাহ থেকে। এতে একদিকে যেমন সরকারের উন্নয়ন কাজ ব্যহত হচ্ছে, অন্যদিকে থেমে গেছে ৩’শ ৬১ জন শ্রমজীবী নারীপুরুষের  আয়ের পথ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেম্বারদের সাথে চেয়ারম্যানের সমন্বয় না হওয়ার কারনেই বন্ধ হয়ে আছে ইউনিয়ন পরিষদের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড। সরকারিভাবে পরিচালিত অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর কাজ শুরু না হওয়ায় ওই ইউনিয়নের ৩৬১ জন শ্রমিক বেকার জীবন যাপন করছেন। অথচ কাজ করতে পারলে করোনাকালীন সময়ে হতদরিদ্র এই শ্রমিকরা প্রতিদিন ২’শ টাকা করে হাজিরা বাবদ পেতেন।

ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নলডাাঙা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নের সঙ্গে ইউপি মেম্বারদের দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত জুলাই মাসের ৮ তারিখে পরিষদের ৯ সদস্য চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। অনাস্থা প্রস্তাবটি উপজেলা প্রশাসন থেকে তদন্তপূর্বক আগষ্ট মাসের ২৫ তারিখ উপজেলার হল রুমের বিশেষ সভায় ৯ ভোটে অনুমোদিত হয়। পরে ওই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ইউএনওর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়। অনাস্থা প্রস্তাবটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এর নিষ্পত্তি না হওয়ায় চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে। জনপ্রতিনিধিদের দ্বন্দ্বের কারণে এ ইউনিয়নের অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, এডিবি, এলজিএসপিসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সভায় যোগ না দেয়ায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না বলে জানান চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়ন। তিনি আরও জানান, আমি গত তিন মাস থেকে মেম্বারদের সাথে সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য মেম্বারদেরকে সভায় বসার আহবান করি। কিন্তু মেম্বাররা তাতে সাড়া না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানায় দিন অতিক্রান্ত করছে। আর এতে বিপাকে পড়েছে এলাকার হতদরিদ্র  ৩৬১ জন মাটিকাটা শ্রমিক।

এদিকে অনাস্থা প্রস্তাব দেয়া মেম্বারদের পক্ষ থেকে জয়নাল আবেদীন বলেন, বিগত চার বছর ধরে চেয়ারম্যান একক সিদ্ধান্তে মেম্বারদের মতামত উপেক্ষা করে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কাজ পরিচালনা করে আসছেন। আমরা সদস্যরা সবসময় সুষ্ঠু বন্ঠনের কথা বললে কৌশলে তিনি এড়িয়ে যেতেন। বাধ্য হয়েই আমরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অনাস্থা প্রস্তাব দিলেও প্রায় ৪ মাস অতিবাহিত হলেও সে বিষয়ে এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান ইউএনও বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

এ ব্যাপারে সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নবী নেওয়াজ বলেন, সর্বশেষ ১২ই নভেম্বর উপজেলা পরিষদ হলরুমে সভা আহবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে কোন ইউপি সদস্য হাজির হননি। এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যান। এই অবস্থায় রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিরোধী কাজে জড়িত থাকায় ওই ৯ জন ইউপি সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না পেলে ইউপি সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।